শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭:৪৭ পিএম, ২০২৫-১২-১৭
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। মহান স্বাধীনতার পেছনে যে সমৃদ্ধি, মুক্তি ও অগ্রযাত্রার আকাঙ্খা ছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। আমরা নির্বাচনের পথে এগোচ্ছি। নির্বাচিত সরকার ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলনে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্খিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবো। চট্টগ্রাম হানাদার মুক্ত দিবস-২০২৫ উপলক্ষে আজ ১৭ ডিসেম্বর বুধবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসন কর্তৃক সার্কিট হাউজে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম হানাদার মুক্ত হওয়ার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক চেতনা ধারণ করেই এগিয়ে যেতে হবে। ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের মানুষের জন্য শুধু একটি তারিখ নয়, এটি গর্ব, সম্মান ও মুক্তির প্রতীক। এই দিনকে কেন্দ্র করে আগামী প্রজন্মকে স্বাধীনতার মূল্যবোধ শেখাতে ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) নাজিমুল হক, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মোঃ সিরাজুল ইসলাম। ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম হানাদার মুক্ত দিবসের স্মৃতিচারণ করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাব উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ গবেষনা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, উত্তর জেলা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এইচ এম জিলানী চৌধুরী, গেরিলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ, বৃহত্তর চট্টগ্রাম জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ফজল বারিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোঃ শাহ আলম প্রমূখ। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের গর্ব ও অহংকার। বীর মুক্তিযোদ্ধারা টানা ৯ মাসের যুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ প্রেমিক ও মহাকাব্যের একটি রচনা তৈরী করে আমাদেরকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, দেশপ্রেমিক বীর সন্তানেরা এখনো আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। আমরা তাদের সুস্থতা ও সুদীর্ঘ জীবন কামনা করি, যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই বীর সন্তানদের দেখে অনুপ্রাণিত হতে পারে।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৭ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর সদস্যরা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজেই মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে আত্মসমর্পন করে। এজন্য প্রতি বছরের মত এবারও মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চট্টগ্রাম হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হচ্ছে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে। এরপর চট্টগ্রাম হানাদারমুক্ত হয় ১৭ ডিসেম্বর। ১৭ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলাম চট্টগ্র্ম সার্কিট হাউজে প্রবেশ করেন। সেখানেই তাদের উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।
তারা আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভ করলেও তখনো চট্টগ্রাম চলে জনযুদ্ধ। পরদিন ১৭ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় চট্টগ্রাম। এদিন সকালেই চট্টগ্রামে পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে প্রথম উড়ে লাল সবুজের পতাকা। জয় বাংলা স্লোগানে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে শহরে নেমে পড়ে জনতা। ৭১’র ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করছিলো, তখনও হানাদারমুক্ত হয়নি চট্টগ্রাম। তখনও চলছিলো যুদ্ধ। ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের কুমিরায় পাকিস্তানিদের অস্থায়ী ডিফেন্স ভেঙে যৌথ বাহিনী ভাটিয়ারিতে পৌঁছে যায়। সেখান থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী প্রবল প্রতিরক্ষা অবস্থান তৈরি করেছিল। এখানে ১৬ ডিসেম্বর প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত যুদ্ধ হয়। এক পর্যায়ে পিছু হটতে থাকে পাক হানাদার বাহিনী। পালানোর সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভাটিয়ারি অংশে ধ্বংস করে দিয়ে যায় একটি সেতু। যে কারণে চট্টগ্রামের পথে আগুয়ান মুক্তিযোদ্ধা-স্বেচ্ছাসেবক ও ভারতীয় বাহিনীর অগ্রযাত্রা বিলম্বিত হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধারা আরও বলেন, সেদিনও ছিলো শীতের সকাল। শহরের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ বাঁধভাঙা ¯্রােতের মতো ছুটে আসছিলেন সার্কিট হাউজের দিকে। তাদের কণ্ঠে ছিল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। ৭১’র ২৫শে মার্চ রাতে চট্টগ্রাম থেকে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের সূচনা। চট্টগ্রাম সেই যুদ্ধের সমাপ্তি দেখে ১৭ ডিসেম্বর। প্রতিবছরের মতো এবারও চট্টগ্রাম হানাদার মুক্ত দিবস পালন করেছে জেলা প্রশাসন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক যাত্রীর কাছ থেকà...বিস্তারিত
চবি প্রতিনিধি : : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সংশোধন আইন ২০২৬ এর ৪ ধারা অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্à...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, সিএমপির উদ্যোগে তিনদিন মেয়াদি ওয়াচার কনস্টেবলদের ‘দক্ষতা উন্নয়ন কো...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : আহমদ উল্লাহ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থ বা ইচ্ছার ভিত্তিতে...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মাওলানা মোহাম্মদ মনি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited